ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির সাবেক এই সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বলেন, অরুয়াইল কলেজ মাঠে তার জন্য তৈরি করা মঞ্চ প্রতিপক্ষের লোকজন ভেঙে ফেলেছে, যার ফলে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে বাধ্য হন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে অরুয়াইল বাজারে নিজ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “এই অন্যায়ের জবাব আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি দেবেন। আল্লাহ যদি আপনাদের ভোটে আমাকে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, তাহলে এই দুই উপজেলাকে রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্টসহ নতুনভাবে সাজাবো।”
তিনি আরও বলেন, মাটির কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করায় তিনি কখনো ভয় পান না। গত ৫ আগস্টের পর দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং অর্থ না দিলে হয়রানির প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন বলেই অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছে। “বিরোধী দলে থাকলে সত্য কথা মেনে নেওয়া যায়, আর ক্ষমতায় থাকলে সেই সত্যই তিতা লাগে। কিন্তু আমার কাজ সত্য বলা, আমি তা বলেই যাব,”—বলেন তিনি।
এক বছর আগেও বালু ব্যবসা, জমি ভরাট, দোকান দখলসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানা ও এসএন তরুণ দেকে বহিষ্কার করা হয়।