বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখবো। সুদৃঢ় করব। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে, সামনে নির্বাচন বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক বিতর্ক হবে কিন্তু আমরা ওই পর্যায়ে বিতর্ক করব না, যাতে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়।’
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ব্যাপারে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের চেতনা হচ্ছে জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। প্রত্যাশা, জনআকাঙ্ক্ষা এইটাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরব। জাতীয় ঐক্য হিসেবে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে অুটট রাখব। এই জায়গায় আমাদের কোনো আপস নেই।’
হাদির ওপর হামলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বলে আমরা মনে করি না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১০ তারিখ, তারপর দিনই বাংলাদেশে একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ওপরে হামলা হলো। হামলার ধরন দেখে বোঝা যায় এটা একটা পেশাদার।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদকে অবশ্যই আমরা এই বার্তা দিতে চাই, এই জাতীয় কোনো ধরনের হামলা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। প্রতিহত করতে পারবে না।’
আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নিরাপত্তার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছি আমরা। এ বিষয়টা আজ এখানে আলোচনা হয়নি, অবশ্যই বিষয়টা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা দলীয়ভাবেও চেষ্টা করব, সরকারকেও আহ্বান জানাবো যাতে উনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথবাহিনী এবং সরকার, জনগণ রাজনৈতিক দলগুলো মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে যদি আমরা এগুলোকে মোকাবিলা করি, ইনশাআল্লাহ এই ধরনের ঘটনা আমরা বন্ধ করতে পারব।’