আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উল্লাপাড়া উপজেলা শাখার আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অতীত শাসকদের কেউই নির্দ্বিধায় দাবি করতে পারবেন না যে তারা দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে জামায়াতে ইসলামীর মন্ত্রিত্ব করা দুজন নেতার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, দীর্ঘ অনুসন্ধান করেও বিরোধীরা কোনো অনিয়ম দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াতের বহু শীর্ষ নেতা বিচারিক হত্যার শিকার হয়েছেন। অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।
আমিরে জামায়াত বলেন, ৫ আগস্টের পর তারা আল্লাহর কাছে দলের জনশক্তির নিরাপত্তা কামনা করেছিলেন এবং সেই দোয়া কবুল হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অন্য দলের নেতাকর্মীরা যখন চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে ব্যস্ত, তখন জামায়াতের কর্মীরা মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে বাসস্ট্যান্ড দখল, চাঁদাবাজি বা হামলার কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। জামায়াত সব সময় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বেকার ভাতা নয়, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে। বিচার হবে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে—বিচারের নামে কোনো প্রহসন চলবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান এবং বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত সংগঠন। তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময় তাকেসহ বহু মানুষ জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।