বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিক্টিমকে উদ্ধার করেছে এবং এক অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৩ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২:০০ ঘটিকার সময় গাবতলী থানাধীন বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের এসবি ইটভাটার পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে ৬টি ছাগল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভিক্টিম আব্দুর রহমান মন্ডল ওরফে রঞ্জু মাস্টার (৫৯)-কে পথরোধ করে অপহরণকারীরা।
অপহরণকারীরা একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে এসে অতর্কিতভাবে ভিক্টিমকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে। এ সময় তার মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে তারা।
ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে ভিক্টিম আব্দুর রহমান মন্ডল ওরফে রঞ্জু মাস্টারের ছাত্র মোঃ মিনহাজুল ইসলাম (২৪), পিতা: মোঃ জামাল উদ্দিন, গ্রাম: কুটামুহিন, থানা: গাবতলী, জেলা: বগুড়া। এছাড়া পলাতকদের মধ্যে রয়েছে মোঃ রোহান (৩০), পিতা: অজ্ঞাত; মোঃ জাহিদ (২৯), পিতা: অজ্ঞাত, উভয়েই বনানী লেবুর বাগান, গাবতলী, বগুড়া; এবং মোঃ আল আমিন (২৮), পিতা: চান মিয়া, গ্রাম: ফুলদিঘী, থানা: শাহজাহানপুর।
অপহরণের পর ভিক্টিমকে নশিপুর ইউনিয়নের একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় ভিক্টিমের পরিবার অসহায় হয়ে গাবতলী থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানায়। পরে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান শুরু করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিক্টিমকে ছোট ইতালি নামক গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায় এবং পুনরায় মারধর করতে থাকে। পরবর্তীতে একই দিন রাত আনুমানিক ৭:৪৫ ঘটিকার সময় স্থান পরিবর্তনের সময় ইতালি বাজার এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ভিক্টিমকে উদ্ধার করে এবং মোঃ মিনহাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।