Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / বন্দরের ১৫৩৮ কোটি টাকার ড্রেজিং, নাব্যতা বড় চ্যালেঞ্জ - Chief TV

বন্দরের ১৫৩৮ কোটি টাকার ড্রেজিং, নাব্যতা বড় চ্যালেঞ্জ - Chief TV

2026-07-07  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  30 views
বন্দরের ১৫৩৮ কোটি টাকার ড্রেজিং, নাব্যতা বড় চ্যালেঞ্জ - Chief TV
‎মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্যতা ও ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফল বজায় রাখতে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প শুরু হয়েছে।

‎দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশুর চ্যানেলে শুরু হয়েছে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সংরক্ষণ বা ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প। সম্প্রতি দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর সময় নিয়ে সম্পন্ন হওয়া ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 
মূলত ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের যে গভীরতা অর্জন করা হয়েছে, পলি জমে তা যেন পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
 
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে, যা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জাহাজ চলাচলের পথকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের নৌ-চ্যানেলের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বন্দর প্রশাসন।

‎বন্দর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, অতীতে ড্রেজিংয়ের অভাবে পশুর চ্যানেলে প্রায়ই নাব্যতা সংকট দেখা দিত, যার ফলে বড় জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ থাকতে হতো।
 
ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিংয়ের এই ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করা না গেলে ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফলগুলো দ্রুতই হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ অনুযায়ী, যথাযথ সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের অভাবে অতীতে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং ও খালাস প্রক্রিয়ায় যে ধীরগতি দেখা গিয়েছিল, তা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
 
বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শুরুর ফলে বন্দরের জেটিগুলোতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতার ড্রাফট সম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে পারবে, যা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ড্রেজিং নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হলে বন্দরের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ব্যয়বহুল লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।

‎প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। প্রকল্পের বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে পলি জমার হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
 
কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করবে না, বরং প্রশাসনিক ও কারিগরি নজরদারির মাধ্যমে ড্রেজিং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করবে।
 
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই, কারণ পশুর চ্যানেলের তলদেশ সবসময়ই পলির উপস্থিতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ড্রেজিং খাতে অনিয়মের অভিযোগ কমে আসবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‎এই মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারায় বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পথ প্রশস্ত হবে।
 
তবে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ শেষ করাটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
 
যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মোংলা বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবে এবং দেশের সমুদ্রবন্দর খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Share: