Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / ময়মনসিংহ / বোমা মেরে মুরগির বিষ্ঠা লুট করছিলেন জামায়াত নেতারা, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

বোমা মেরে মুরগির বিষ্ঠা লুট করছিলেন জামায়াত নেতারা, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

2026-04-09  ডেস্ক রিপোর্ট  76 views
বোমা মেরে মুরগির বিষ্ঠা লুট করছিলেন জামায়াত নেতারা, গ্রেপ্তার ৪ - Chief TV

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতের দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে হামলার সময় হাতবোমা বিস্ফোরণ, ব্যাংকের তালা ভেঙে টাকা লুট, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরও করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ এপ্রিল) জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৮ জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য দেন ফুলবাড়ীয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন।

তিনি জানান, এদিন রাতে উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় আটক চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর হামলাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং মামলার তথ্যে জানা গেছে, কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিপি বাংলাদেশ-৫ কোম্পানিতে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। ওই কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা আওয়ামী লীগের সময় তাদের নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে নিয়ে বিক্রি করতেন। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন জয়লাভ করেন। এরপর সেখানার মুরগির বিষ্ঠা কারা নেবেন তা নিয়ে জামায়াত ও স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাস, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা করে দুই শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে যায়। তারা সেখান থেকে দুই ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যায়।
পরে কাহালগাঁও বাজারে ঢুকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট এবং যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

কাহালগাঁও বাজারের ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থাপক মো. শামীম হক বলেন, আমি মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ব্যাংকে তালা বন্ধ করে যাই। রাত ১১টার দিকে জামায়াতের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী বাজারে হামলা চালায়। এ সময় আমার ব্যাংকের তালা ভেঙে পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

গাজী কোম্পানির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ সুজন মিয়া অভিযোগ করে জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে দুই লাখ সাত হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। হামলায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।

কাহালগাঁও বাজারের ইজারাদার আমিমুল ইসলাম বলেন, হামলার সময় আমি বাজারে ছিলাম। হঠাৎ জামায়াতের নেতাকর্মী হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় আমার ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল লুট করে করে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির ব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান বলেন, আমরা মুরগির বিষ্ঠা বিনামূল্যে দিয়ে দেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাদের নেতাকর্মীরা মুরগির বিষ্ঠা নিতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষ্ঠা নিত। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে বিষ্ঠা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন আমাকে একদিন ফোন করে বলেন, বিষ্ঠা যেন জামায়াতের নেতাকর্মীদের দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিষয়টি আমি ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

প্রতি দেড় মাসে ছয়টি শেড থেকে প্রায় আট লাখ টাকার বিষ্ঠা উৎপাদন হয়। এটি দিয়ে সাধারণত মাছের খাবারসহ অন্যান্য জিনিস তৈরি হয় বলে জানান ব্যবস্থাপক।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়ার সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন বুধবার রাতে বলেন, সংসদ অধিবেশনের জন্য ঢাকায় আছি। তবে এলাকার এই ঘটনা শুনেছি। মূলত বিএনপির দুটি পক্ষ এবং জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী এর সঙ্গে যুক্ত আছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু যে বা যারাই এই ঘটনা ঘটাক তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে বুধবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এছাড়া হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় কাহালগাঁও বাজারে বিএনপি এবং স্থানীয়দের ব্যানারে বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, এটি একটি সন্ত্রাসী ও ডাকাতি কার্যক্রম। জামায়াত যে একটি সন্ত্রাসী দল, এ ঘটনায় আবারও তা প্রমাণ হলো। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িত সব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।


Share: