কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের পাশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার, যিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনে, ২২ জানুয়ারি, ছুফুয়া বাজারে অনুষ্ঠিত তাহেরের সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন। তখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
গত রোববার বিকেলে মিয়া বাজার লতিফুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার জনসভায় উপস্থিত হয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার বিএনপিতে যোগ দেন। তাকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভাগত জানানো হয়। সালাউদ্দিন মজুমদারের বক্তব্য, “আমি আগে বিএনপি করতাম, এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।”
আইনগত পটভূমি
খোঁজে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার এলাকা থেকে সালাউদ্দিন আহমেদ ও তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহ মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার কারণে তারা তখন আত্মগোপনে ছিলেন। মামলাটি ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় ৮ বাসযাত্রীকে পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়।
মামলার তালিকায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, তৎকালীন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র্যাবের তৎকালীন ডিজি বেনজীর আহমেদ সহ প্রায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরও ৫০–৬০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সালাউদ্দিন মজুমদার ছিলেন ১১ নম্বর আসামি, তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার ৭৯ নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পর তারা জামিনে মুক্তি পান এবং বর্তমানে এলাকার জনসমক্ষে প্রকাশ্যে রয়েছেন।