মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য মূলত নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এর আগে এনডিটিভিকেও দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তি একত্রিত হতে পারে। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভোগবাদী রাজনীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে বড় ধরনের আন্দোলনে নামার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা অনেকটা আগের ‘ঈদের পর আন্দোলন’ ধরনের বক্তব্যের মতো। তার মতে, অতীতেও বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে ফেরার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি বলেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি এমন ঝুঁকি নেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আওয়ামী লীগের প্রতি আগের মতো সমর্থন নেই।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে অধ্যাপক নুরুল আমিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে বড় ধরনের জনসমর্থন তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাপে পড়বেন।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামও শেখ হাসিনার বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম; বরং এটি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার একটি রাজনৈতিক বার্তা।
তিনি বলেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। আর আইনি পরিস্থিতি এড়ানোর কারণেই তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে মনে করেন তিনি।