দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, “এক ফ্যাসিস্টকে সরিয়ে আরেক ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ দেশের মানুষ রক্ত দেয়নি। আগামীর বাংলাদেশ হবে চাঁদাবাজ, দখলদার ও দুর্নীতিমুক্ত। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের কোনো বিকল্প নেই।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, “রক্ত দিয়ে দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দিতে পরাজিত সব শক্তি বিপ্লবের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কিছু মানুষের প্রকাশ্যে জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার সৎ সাহস নেই। তাই তারা মানুষকে প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে ভোট দিতে বলেন, কিন্তু গোপনে গণভোটে না ভোট দেওয়ার জন্য ক্যাম্পেইন চালান। জাতীয় রাজনীতিতে এ মোনাফেকি দেখতে চাই না।”
প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “বাউফলবাসী একজন শিক্ষিত, সৎ ও জনবান্ধব প্রার্থী হিসেবে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে পেয়েছে, যা তাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। দেশ গড়ার লড়াইয়ে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের আর কোনো স্থান হবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মরহুম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র জনাব শামীম সাঈদী বলেন, “নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। ইনসাফ কায়েমে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।”
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি এমপি হতে নয়, বরং বাউফলবাসীকে এমপি বানাতে চাই। ক্ষমতার মোহে নয়, আপনাদের ছিনতাই হওয়া অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজনীতিতে এসেছি।” নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও ইনসাফভিত্তিক বাউফল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশ শেষে বক্তারা আগামী নির্বাচনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।