২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্তত পাঁচজন ফুটবলার ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাপানের দুই ফুটবলারও রয়েছেন। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন, কারণ তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি এবং কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত এখনও চলমান।
ফিফার বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেই কোনো খেলোয়াড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয় না। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেয় এবং খেলোয়াড় নির্বাচনের বিষয়টি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওপর ছেড়ে দেয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা ফিফার নিজস্ব কোনো শাস্তি না থাকলে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের খেলার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অভিযোগের মুখে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন কেপ ভার্দের অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস। তার বিরুদ্ধে এক ব্রাজিলীয় নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। নিউজিল্যান্ড পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাপানের জুনিয়া ইতো ২০২৪ সালে দুই নারীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগের মুখে পড়েন এবং সাময়িকভাবে জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েন। পরে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা অভিযোগের মামলা করেন। পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় জাপানের প্রসিকিউটররা উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যদিকে, জাপানের কাইশু সানোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। পরবর্তীতে তিনি জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেন। জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু জানান, সানোর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি খেলোয়াড়টির অনুশোচনায় বিশ্বাস করেছেন এবং তাকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে ফ্রান্সে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। অভিযোগকারীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর হাকিমির বাসায় গিয়ে তিনি সম্মতি ছাড়া যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হন। হাকিমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ঘানার মিডফিল্ডার থমাস পার্টির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের সাতটি অভিযোগ রয়েছে। একাধিক নারীর করা এসব অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। অভিযোগের কারণে কানাডা তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি ঘানার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও অংশ নিতে পারেননি।
ফিফা জানিয়েছে, অসদাচরণের যেকোনো অভিযোগ তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে কোনো ঘটনা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন থাকলে সংস্থার স্বাধীন বিচারিক কাঠামো সাধারণত সে বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না। ফিফার নীতিমতে, আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা সংস্থার নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অভিযুক্ত ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে স্বয়ংক্রিয় কোনো বাধা নেই।