নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের সুচগেট চেকপোস্ট এলাকায় তিন মাসের ব্যবধানে দুটি দুঃসাহসিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত ২৯ মার্চ একই এলাকায় গভীর রাতে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় শতাধিক যানবাহন আটকে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে চাপানী হাটের ভূট্ট ও কিটনাশক ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সুচগেট চেকপোস্ট এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এর আগে গত ২৯ মার্চ একই এলাকায় রাতের আঁধারে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শতাধিক ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতদল। পরে চালক ও যাত্রীদের জিম্মি করে অন্তত ৩৫টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ সময় কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় বারবার এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরা না পড়ায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রাতের বেলায় ওই সড়কে চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
জানা গেছে, মার্চের ডাকাতির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে র্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করলেও ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের এখনও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। তাই এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলতে পারছি না। ঘটনাস্থলে ডিমলা থানার ওসিকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির বিস্তারিত তার কাছ থেকেই জানা যাবে।"
পরে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।