ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফসান শেখ (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ওঝা ও ফকিরের ঝাড়ফুঁকের পেছনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নষ্ট করার কারণেই ছেলেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার (২৭ জন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাফসান ওই গ্রামের লিটন শেখের ছেলে এবং বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির নবম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও পুরো এলাকাজুড়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরের টয়লেটে গিয়েছিল রাফসান। পরে টিউবওয়েলে হাত-পা ধুয়ে ঘরে প্রবেশের সময় একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়। ঘটনার পরপরই সচেতনভাবে হাসপাতালে না নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে গোহাইলবাড়ীর এক ওঝার কাছে নিয়ে যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরের টয়লেটে গিয়েছিল রাফসান। পরে টিউবওয়েলে হাত-পা ধুয়ে ঘরে প্রবেশের সময় একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দেয়। ঘটনার পরপরই সচেতনভাবে হাসপাতালে না নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে গোহাইলবাড়ীর এক ওঝার কাছে নিয়ে যান।
সেখান থেকে ফেরত পাঠানোর পর তাকে সোতাশীর আরেক ওঝার বাড়িতে নেওয়া হলে কয়েকজন ফকির ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষ নামানোর দাবি করেন। কবিরাজদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে রাফসানকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
কিন্তু দীর্ঘ ৭-৮ ঘণ্টা পর তার শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া ও প্রচণ্ড অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের লোকজনের ভুল ভাঙে এবং তারা দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান জানান, তাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে (৪৫টি) অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান জানান, তাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে (৪৫টি) অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
কিন্তু রোগী সাপে কাটার প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর আসায় তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল, যার ফলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সাপে কামড় দিলে ওঝা-ফকিরের পেছনে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারের কারণে সময় অপচয় হলে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই বিষয়ে গ্রামীণ জনপদে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।