এই তো এক দুই তিন করে করে, কেটে গেল ২০২৫ ইংরেজি সন। বন্ধুদের জন্য রইল আগাম শুভেচ্ছা। বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানে, ইউনূস সরকারের আমলে ২০২৫ - ২০২৬ অর্থবছরের বাজেট পাশ হয়েছিল, প্রায় আট লাখ কোটি টাকার। এতো বড় বিগ বাজেট থাকা স্বত্তেও জনগণ খুবই হতাশ। দেশের অর্থনৈতিক মন্দা চলছে চারদিকে। কোথায় কাজ হয়েছে ঐ টাকার? এ যেন হরিলুট চলছে ইউনূস আমল।
অন্যদিকে গত বছরটা ছিলো মহা লুঠপাটের বছর। জরিপে বলা হয়। প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক নতুন কোটিপতি হয়েছে। গতকালকের খবর হল। সিলিন্ডার গ্যাস নেই মার্কেটে। যা আছে তাও ষোলশ, সতেরশ, এবং আঠারোশ মূল্যের । দেশের বিভিন্ন এলাকায় সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ টাকা দামের রং চায়ের মূল্য আট টাকা থেকে দশ টাকা হয়ে গেছে। আরো পনেরো মাস পূর্বে এই সরকার প্রতিটি সিগারেটের জন্য দুই টাকা বাড়িয়েছিল। যা ছিল সর্বকালের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি।
ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাসহ যারাই বিভিন্ন পদে আছেন। তারা কোন কাজেই কথা বলেন না। এটা মন্দ বলছেন তাও না। সালাম দিয়েছেন তাও না। এই উপদেষ্টরা দেশের অর্থনৈতিক নিয়ে, জনগণ নিয়ে যেন কেউই কিছু ভাবছেন না।
অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের ছেলে মেয়েরা এখনো তারা অনেকেই শাহবাগ ছাড়তে পারেনি। চাকরির জন্য আন্দোলনকারীর প্রথম শ্রেণির ছেলে মেয়েরা অনেকেই রাজনীতি করা শুরু করে দিয়েছে। দেশ তথা সমগ্র জাতি বিপথগামী এবং বিপদগামী বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। এছাড়া গত একবছরে অনেক কিছু হয়ে গেল। কিন্তু রাষ্ট্রের কোন দায়িত্বই নেননি ইউনূস বনাম সরকারের উপদেষ্টাগণেরা।
এদিকে প্রফেসর ড. ইউনূস তিনি সমগ্র জাতির বৃহৎ একটি গুষ্ঠির কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। তার একটি বড় প্রমাণ হল, জাতীয় নির্বাচন এবং তফসিল। নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার পরেও দেশের নব্বই ভাগ লোক বলছেন নির্বাচন হবে কিনা। তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম, কোন তফসিল ঘোষণার পর জনগণের মাঝে এরকম অবিশ্বাস্য আলোচনা শুরু হল। এর অবশ্য অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আমি আজকে আর তা বলতে গেলাম না। তবে হাতে গোনা কিছু রাজনীতিবিদ ছাড়া বতর্মান উপদেষ্টা গণ জনগণের কাছে অপ্রিয়ই আছেন এখনো।
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ইউনূসের ব্যর্থতা নিয়ে, কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করছেন না। যাকে বলে বিড়ালের মেউ ধরবে কে?
অন্য দিকে নতুন করে গর্জে উঠা বেশকিছু রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নিয়েছে। আমার মতে যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে পারে না। এর প্রথম কারণ হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্মই হল শুধুমাত্র নির্বাচন দেয়ার জন্য। কোন দলের নিবন্ধন দেয়ার জন্য নয়। শতাধিক রাজনীতি দল দেশে থাকার পরেও যদি দেশের অচল অবস্থা থাকে। তাহলে এই সকল দল থাকা না থাকা সমান। সব শেষে সব মিলিয়ে দেশের একটি বছর পার করার জন্য। ইউনূস সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে হচ্ছে। তিনি যে ধৈর্য্যশীল। হাজার জনের হাজার কথা। শতাধিক আন্দোলন থাকার পরেও ক্ষমতা ছেড়ে যাননি। সেই ধৈর্য্য ধারনের জন্য আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। তবে রাষ্ট্র সংস্কার বলে কিছুই হয়নি। এই কথাটি কিন্তু চির সত্যি।
সবার জন্য রইল ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক