বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কড়াইল বস্তিবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ঢাকায় বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা যে কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তা ধীরে ধীরে লাঘব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কড়াইল এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাসরত মানুষদের নামে রেজিস্ট্রি করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, যেকোনো বিপদ-আপদে তিনি কড়াইলবাসীর পাশে থাকতে চান। বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য করেন। কড়াইলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিনি তাঁদেরই একজন এবং পাশে থেকেই কাজ করতে চান।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে নারীশিক্ষার প্রসারে বিনামূল্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসী বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছে।
কড়াইলবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হওয়ার পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো—তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সন্তান। দেশের মানুষের কল্যাণেই তাঁর রাজনীতি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যেসব মা-বোনদের জন্য একসময় বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে মহান আল্লাহর রহমতের ওপর।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, নারীদের স্বাবলম্বী করা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও এ ধরনের কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ সুযোগ দিলে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের অতীত স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একসময় তিনি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাস করতেন। সেই বাড়ি যেভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা তিনি ভুলে যাননি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন এবং কড়াইলবাসীর জন্য কাজ করতে আগ্রহী।
দোয়া মাহফিলে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪-এর আন্দোলনে’ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে কড়াইলবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের দোয়া থাকলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।