এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কায়কোবাদকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তারা যতবার নির্বাচিত হয়েছেন, ততবারই ভোটকেন্দ্র দখল ও টাকার বিনিময়ে ভোট কিনে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু একটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে—ভোটকেন্দ্র দখল করতে না পারলে—কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কুমিল্লা–৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের পথসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকারের একটি স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে। তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরের নিপীড়নের পর গত ১৭ মাস ক্ষমতায় না থেকেও একটি দল মানুষকে একই ধরনের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। এই উপলব্ধি থেকেই ১১ দলীয় ঐক্য জোট গঠন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুমিল্লার ওপর তার বিশেষ ক্ষোভ ছিল, যার ফলে অনেক পাকা রাস্তা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। তবে নিজের সরকারের সময়ে তিনি কুমিল্লায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তরুণদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ১৬ বছর বয়স থেকেই ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। শুধু গার্মেন্টস বা রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভর না করে তরুণদের জন্য বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা কার্ডের ভাতা দিয়ে তরুণদের পরনির্ভরশীল করতে চাই না—বরং কাজের সুযোগ করে দেব।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি ১৭ বছর লন্ডনে ছিলেন। আগে বাংলাদেশের অলিগলি ঘুরে দেখুন—কোথায় কী আছে, জানুন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্মার্ট এনআইডি কার্ড থাকা সত্ত্বেও শত শত কার্ড দেওয়ার কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এসব কার্ড পেতে কত টাকা ঘুষ দিতে হবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, নির্বাচনে জেতার জন্য একটি পক্ষ মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনি বলেন, গত ১৪ মাস সরকারে থেকে জনগণের জন্য কাজ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ইউসুফ হাকিম সোহেলকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।