নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার দুই মাস ১০ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় একটি বড় ও ১৪টি ছোট দানবাক্স খুলে মোট ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫১৯ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দানবাক্স থেকে কিছু বৈদেশিক মুদ্রা, একটি সোনার নাকফুল ও একটি ছোট চাঁন-তারা উদ্ধার করা হয়।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুসুম্বা মসজিদ কমিটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এবার আমরা দুই মাস ১০ দিন পর দানবাক্স খুলেছি। এতে মোট ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫১৯ টাকা পাওয়া গেছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কুসুম্বা শাহী মসজিদে আগত দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানত করে যে অর্থ দান করেন, সেই অর্থ দিয়ে মসজিদ ক্যাম্পাসে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নারীদের জন্য উন্মুক্ত নামাজঘর, তবারক তৈরির রান্নাঘর সংস্কার, পরিচ্ছন্ন কসাইখানা নির্মাণ, দর্শনার্থীদের বসার সুব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে পাকা রাস্তা নির্মাণ।
তিনি আরও জানান, মসজিদের পাশে একটি ইসলামিক লাইব্রেরি ও কালচারাল রিসার্চ সেন্টার নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেখানে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা কুসুম্বা মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ সম্পর্কে জানতে পারবেন।
দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “দর্শনার্থী বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। সে কারণে পুরো মসজিদ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
এর ফলে আগত দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় ও মানত সম্পন্ন করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।