শাবান মাসের ১৫ তারিখকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের একটি অংশ বিশেষ নামাজ, নফল রোজা ও অতিরিক্ত ইবাদতে মনোযোগী হয়ে থাকেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এই দিনের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট আমলের নির্দেশনা আছে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দেয়।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে সহিহ সূত্রে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত বা দিনের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ, নির্দিষ্ট রোজা কিংবা আলাদা ইবাদতের নির্দেশ প্রমাণিত হয়নি। আলেমদের মতে, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে যেসব নির্দিষ্ট আমলকে সুন্নত বা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ হিসেবে প্রচার করা হয়, তার পক্ষে শক্ত দলিল পাওয়া যায় না।
তবে পুরো শাবান মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার বিষয়টি সহিহ হাদিসে প্রমাণিত। সহিহ বুখারিতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের অধিকাংশ দিন রোজা রাখতেন।
হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে নবীজি বলেন,
“এটি এমন একটি মাস, যার প্রতি মানুষ সাধারণত উদাসীন থাকে। এটি রজব ও রমজানের মাঝখানে অবস্থিত। এই মাসেই বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি চাই, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ হোক, যখন আমি রোজাদার থাকি।”
এই হাদিসের আলোকে আলেমরা বলেন, শাবান মাসে যতটা সম্ভব নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে পুরো মাস টানা রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়।
এ মাসে বেশি বেশি দোয়া করা, সুস্থতা কামনা করা, রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাওয়া এবং রমজানের রোজা ও ইবাদত সুন্দরভাবে আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আলেমরা।
শাবান মাসের ১৫ তারিখকে ঘিরে আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ বা রোজা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত না হলেও অনেক মুসলমান এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় কাটান—যা সাধারণ নফল ইবাদতের অংশ হিসেবে করা যেতে পারে। পাশাপাশি ১৪ শাবান দিবাগত রাতের পরের দিন আইয়ামে বীজের (মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫) রোজা রাখা যায়।
হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।” (তিরমিজি, নাসাঈ)
আলেমরা আরও বলেন, শবে বরাতে নফল নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম বা নিয়ত নেই। অন্যান্য নফল নামাজ যেভাবে আদায় করা হয়, সেভাবেই পড়তে হবে। এ রাতের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা আলাদা নিয়ত নির্ধারণ করা বিদআত হিসেবে গণ্য হতে পারে, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কোনো বিশেষ নিয়ম বর্ণনা করেননি।