মাত্র ১৪ বছর বয়সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে আশেফ আলী। রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন এই কিশোর এখন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশেফ আলী গত তিন দিন ধরে রংপুর ডক্টরস ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার একটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে এবং অপর কিডনিটিও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে—যা তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কিছুদিন আগেও যে ছেলেটি বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকত, সেই প্রাণবন্ত আশেফ আজ হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে আছে। তার চোখে এখন শুধু বাঁচার আকুতি।
আশেফ সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামালের ছেলে। তার বাবা বেকার এবং মা গৃহিণী। দুই সন্তানের সংসারে আশেফই বড়, আর ছোট বোন মিথিয়া (৫) এখনও শৈশবের দোলনায়।
পরিবার জানায়, ছোটবেলা থেকেই আশেফ সুস্থ ছিল। হঠাৎ করেই তার কিডনি জটিলতা ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানোর পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
অসহায় বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,'আমাদের সামর্থ্য নেই ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করার। সমাজের বিত্তবান মানুষদের সাহায্য ছাড়া আমাদের ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব নয়।'
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেহানা আখতার জানান,'আশেফ খুব শান্ত ও ভদ্র ছাত্র ছিল। হঠাৎ এত বড় রোগে আক্রান্ত হবে—আমরা কেউ কল্পনাও করিনি। ওকে বাঁচাতে সবার এগিয়ে আসা জরুরি।'
বর্তমানে অর্থের অভাবে থমকে যেতে বসেছে আশেফের চিকিৎসা। তাই তার পরিবার সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সকল মহলের কাছে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছে।