বগুড়ার ধুনট উপজেলায় হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধ ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এর অংশ হিসেবে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পৃথক ‘আইসোলেশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের একটি অংশকে এই ইউনিটের জন্য নির্ধারিত করে সেখানে বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলায় বর্তমানে নিশ্চিতভাবে কোনো হামের রোগী নেই। তবে গত ২ এপ্রিল জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে হামের লক্ষণ না পাওয়ায় এবং অন্যান্য জটিলতা থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির জানান, “বর্তমানে ধুনটে নিশ্চিত কোনো হামের রোগী পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রেখেছি। জ্বর, সর্দি বা শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে আসা রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, হামের ভয়াবহতা ও সচেতনতা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মির্জা শরিফুল ইসলাম বলেন, “হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। শিশুদের চোখ লাল হওয়া, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে। সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিত করাই এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।”
ইপিআই (EPI) এর তথ্যমতে, দেশে টিকাদানের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ ঝুঁকি পুনরায় বাড়ছে। ২০২৫ সালে টিকাদানের হার ৫৭.১ শতাংশে নেমে আসায় শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকট ও অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।