Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / বরিশাল বিভাগ / সারাদেশ / পিরোজপুর / মূল্যবৃদ্ধি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: বিলুপ্তির পথে শাঁখাশিল্প - Chief TV

মূল্যবৃদ্ধি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: বিলুপ্তির পথে শাঁখাশিল্প - Chief TV

2026-06-14  ডেস্ক রিপোর্ট  25 views
মূল্যবৃদ্ধি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব: বিলুপ্তির পথে শাঁখাশিল্প - Chief TV

বাংলাদেশ তথা এই উপমহাদেশে শাঁখা শিল্পের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরোনো হলেও কাঁচামালের চড়া দাম ও নানা প্রতিকূলতায় পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী শাঁখাশিল্প এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের বিবাহিত জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ শঙ্খের তৈরি এই শাঁখা দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।
 
উপকরণ বা কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অভাব এবং সরকারি নীতিমালার সংকটের কারণে পিরোজপুরের শাঁখাশিল্পীরা চরম দুর্দিন পার করছেন। টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
 
এই শিল্পের সাথে জড়িতরা অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে জানান, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে প্রতিটি শিল্পী পরিবারকে সাহায্য হিসেবে ১০০টি করে মোট প্রায় দেড় লাখ শঙ্খ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো সরকারই এই সম্ভাবনাময় শিল্পের দিকে ফিরেও তাকায়নি। সরকারি সদিচ্ছার অভাবে এর বাজার ও ভবিষ্যৎ ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

মূলত শাঁখা তৈরির মূল উপকরণ বড় আকারের সাদা রঙের শঙ্খ এক ধরণের সামুদ্রিক জলজ প্রাণী, যা শ্রীলঙ্কার সমুদ্রের তলদেশ থেকে সংগৃহীত হয়ে ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি হতো। একসময় দেশের আমদানিকারকরা সরাসরি এটি আমদানি করতেন এবং পিরোজপুরের শিল্পীরা ঢাকার শাঁখারিপট্টি বা খুলনার মোকাম থেকে সেই শঙ্খ সংগ্রহ করতেন।
 
তবে বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি শঙ্খ আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে চড়া মূল্যে কাঁচামাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কারিগররা। ভারত থেকে বর্তমানে একটি শঙ্খ কিনতে খরচ হচ্ছে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।
 
একটি শঙ্খ থেকে মাত্র চার জোড়া শাঁখা তৈরি হয়, যা প্রতি জোড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়। এছাড়া শঙ্খের গলার হার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং আংটি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর কাঁচামালের দাম বাড়লেও তৈরি পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন শিল্পীরা।

ব্যবসায়িক মন্দা ও কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে পিরোজপুর শহরের চিত্রও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে পিরোজপুর শহরে আটটি শাঁখা কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্র ছিল, সেখানে এখন টিকে আছে মাত্র দুটি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই সংকট চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় শঙ্খশিল্পের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
 
তখন সনাতন সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ চড়া মূল্যে ভারত থেকে শাঁখা আমদানি করে পরতে হবে, যা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। হাজার বছরের এই লোকশিল্প ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংকটে থাকা শাঁখাশিল্পীরা।

Share: