ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আবার জোরজবরদস্তি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক—এটা জনগণ কখনো চায় না। তিনি আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, এই জনপদে অতীতে বহু সহিংস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে মানুষ।
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিব, ঝিনাইদহ-১ আসনের এ এস এম মতিউর রহমানসহ জেলার শীর্ষ নেতারা।
দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিকেলের আগেই মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। শহরের বিভিন্ন সড়কে বাস, ট্রাক ও থ্রি-হুইলার চলাচলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঝিনাইদহে পৌঁছে সরাসরি মঞ্চে ওঠেন জামায়াত আমির। রাত ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে তিনি আগামীর বাংলাদেশের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় মানসম্মত মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বেকারত্ব দূর করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না—সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট বন্ধ করে জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের ভেতরে বা বাইরে থাকা অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুর্নীতি পরিহার না করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। চাঁদাবাজির চেয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করাই সম্মানের।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ জাতির মানুষ যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বক্তব্য শেষে তিনি জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ঝিনাইদহ-১ এ এস এম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ও ঝিনাইদহ-৪ মাওলানা আবু তালিবের হাতে প্রতীক তুলে দেন।