নির্বাচনের সময় অনেক রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করলেও তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। এই সমস্যা কেবল রাজনৈতিক নয়—এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকট। দৈনন্দিন জীবনেই সংখ্যালঘুদের অনেকে বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েন, আর নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এসব ঝুঁকি আরও বাড়ে।
গতকাল সিলেট নগরের নির্ভানা ইন-এর একটি হলরুমে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘প্রতিটি কণ্ঠের মূল্য: সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন।
সংলাপে আলোচকরা বলেন, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আলোচনায় অংশ নেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মলয় পুরকায়স্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি অনিলজয় ডিকার, খাসিয়া নারী প্রতিনিধি হিলদা মুকিম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমর বিজয় সী শেখর এবং সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ আরও অনেকে।
সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, তখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের মূল সূচক হিসেবে দেখতে হবে—এটি কোনো পার্শ্ব বিষয় নয়। তিনি জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯.৬ শতাংশ সংখ্যালঘু হলেও অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচিতে তাদের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর বলেন, দেশে নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন—প্রায় সব পর্যায়েই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।