নরসিংদীর মাধবদী থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় চার সন্তানের এক জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার পৌরসভার একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। মেয়ের জন্য ঈদের জামা কিনে ইফতারের আগেই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
এর আগে গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর মোবাইল ফোনে কথাবার্তা হচ্ছিল। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজারে এসেছেন- এ খবর পেয়ে রিদয় দেখা করার কথা বলে। পরে ওই নারী একাই অটোরিকশাযোগে রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান।
সেখানে রাস্তায় রিদয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ভুক্তভোগী নারী প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় তাকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন অজ্ঞাত যুবক তাকে পুকুরপাড়ে ফেলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা ওই নারীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। এরপর তিনি দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ার লুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং শ্রমিকদের বিষয়টি জানান।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মামলা দায়ের করা হয়। পরে মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানায় বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থল নরসিংদীর মধ্যে হওয়ায় আমাদের জানানো হলে আমরা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারী অন্যদের নাম বলতে না পারলেও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। অন্য অভিযুক্তদের পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।