Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / জাতীয় / রমজানে রোজাদারদের স্বস্তি দিতে চায় সরকার - Chief TV

রমজানে রোজাদারদের স্বস্তি দিতে চায় সরকার - Chief TV

2026-02-02  ডেস্ক রিপোর্ট  132 views
রমজানে রোজাদারদের স্বস্তি দিতে চায় সরকার - Chief TV

রমজান মাসের শুরুতে নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা ও খেজুরের চাহিদা এই সময় সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতিবছর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, ফলে রোজাদাররা ভোগান্তিতে পড়েন।

তবে এবার রমজানকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আগেভাগেই সতর্কতা নিয়েছে। রমজানের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব ও কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি, তাই সংশ্লিষ্টরা আরও শক্তিশালী মনিটরিং চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—এ বছর রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, রমজান শুরু হওয়ার আগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ান। পণ্যের মজুদ যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ে এবং ভোক্তারা ভোগান্তির মুখে পড়েন। পরে যে কোনো লোক দেখানো অভিযান করা হলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই এবার আগেভাগেই কার্যকর মনিটরিং ও অনিয়ম ধরা গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন জানান, দেশে রমজানের পণ্যে কোনো সরবরাহ সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজার ও রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এ বছর পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।

জানানো হয়েছে, এই বছর রমজান ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে পারে। চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি রমজাননির্ভর পণ্যের মজুদ ইতিমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে। পাইপলাইনে আরও বিপুল পরিমাণ পণ্য রয়েছে, যা রোজার আগেই দেশে পৌঁছাবে।

প্রধান পণ্যের মজুদের পরিস্থিতি:

  • ভোজ্যতেল: বার্ষিক চাহিদা ২৫ লাখ টন, রমজানে প্রায় ৩ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদন ৫ লাখ টন, আমদানি ৩ লাখ ৬৬ হাজার টন, পাইপলাইনে আরও ৩ লাখ ৯২ হাজার টন।

  • মসুর ডাল: বার্ষিক চাহিদা ৭ লাখ টন, রমজানে প্রয়োজন ৮০ হাজার টন। স্থানীয় উৎপাদন ১ লাখ ৫৫ হাজার টন, আমদানি ৭২ হাজার টন, পাইপলাইনে ১ লাখ ৭৮ হাজার টন।

  • চিনি: বার্ষিক চাহিদা ২০–২১ লাখ টন, রমজানে প্রয়োজন ৩ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদন ৩৭ হাজার টন, আমদানি ৪ লাখ ৪৬ হাজার টন, পাইপলাইনে ৩ লাখ ২৯ হাজার টন।

  • পেঁয়াজ: বার্ষিক চাহিদা ২৬–২৭ লাখ টন, রমজানে প্রয়োজন ৫ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদন ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টন।

  • ছোলা: বার্ষিক চাহিদা ২ লাখ টন, রমজানে প্রয়োজন বেশিরভাগ। উৎপাদন ২২ হাজার টন, আমদানি ১ লাখ ১ হাজার টন, পাইপলাইনে ১ লাখ ৩০ হাজার টন।

  • খেজুর: বার্ষিক চাহিদা ৯০–১১০ হাজার টন, রমজানে প্রয়োজন ৬০–৮০ হাজার টন। আমদানি ১০ হাজার টন, পাইপলাইনে আরও ৫৬ হাজার টন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, এলসি খোলায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে মজুদের বাস্তব অবস্থা সরকারের তথ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে কি না তা যাচাই করা জরুরি। অতীতে পেঁয়াজের মজুদের কথা বলা হলেও বাজারে দাম অনেক বেশি ছিল। তিনি আরও বলেন, বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে এবং কেউ যেন অবৈধ মজুদ বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে, তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


Share:

ট্যাগস: chief tv news chief tv জাতীয়