বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি আজ পঞ্চম দিনে পড়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তারা গত সপ্তাহ থেকেই আন্দোলনে রয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ (রোববার) তারা ‘ভূখা মিছিল’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন—খালি থালা-বাটি হাতে নিয়ে শিক্ষা ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন তারা।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,
“আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছি, অথচ নিজেদের জীবনে নিরাপত্তা নেই। বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই খালি থালা হাতে রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় নেই। এটি শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, আমাদের দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিফলন।”
আজিজী আরও বলেন, এই দাবি শুধুমাত্র শিক্ষকদের জন্য নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও সমতা রক্ষার সঙ্গেও জড়িত। সরকার চাইলে আজই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এর আগে ১২ অক্টোবর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরদিন থেকেই সারা দেশে পাঠদান বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা।
সরকার ইতোমধ্যে ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, তবে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি—
বাড়িভাড়া ভাতা ২০ শতাংশে উন্নীত করা,
চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা,
কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে যাচ্ছেন না; আঙিনা ও শিক্ষক লাউঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এখনো শতাধিক শিক্ষক অবস্থান করছেন। কেউ চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানারকে বালিশ বানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই কথা—
“ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
এর আগে বুধবার (১৬ অক্টোবর) শিক্ষকরা শাহবাগ মোড়ে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সেদিনই ঘোষণা আসে নতুন কর্মসূচি—‘মার্চ টু যমুনা’।