নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের রক্ষণশীল রাজ্য কানোর এক আদালত টিকটকে প্রকাশিত আবেগঘন চুম্বনের ভিডিওর ঘটনায় দুই টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার, যখন একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শরিয়াভিত্তিক নৈতিকতা পুলিশ ‘হিসবাহ’-কে নির্দেশ দেয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওই দুই কনটেন্ট নির্মাতাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করতে হবে। আদালতের মতে, তারা এমনভাবে প্রেমে নিমগ্ন ছিলেন যে টিকটকে প্রকাশ্যে রোমান্টিক দৃশ্য ধারণ করেছেন, যা স্থানীয় সামাজিক নিয়মের পরিপন্থী।
কানো রাজ্যের বিচার বিভাগের মুখপাত্র বাবা-জিবো ইব্রাহিম জানান, আদালত হিসবাহকে আদেশ দিয়েছে যাতে তারা দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করে।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে শরিয়া আইন কার্যকর, যার মধ্যে কানো অন্যতম। এখানকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রোমান্টিক বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য প্রকাশ কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইনফ্লুয়েন্সার ইদ্রিস মাই উশিরিয়া ও বাসিরা ইয়ার গুদা টিকটকে ঘনিষ্ঠতার একটি ভিডিও পোস্ট করার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। মাই উশিরিয়া এর আগেও অনুরূপ কারণে কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
হিসবাহর মহাপরিচালক আব্বা সুফি বলেন, তারা আদালতের নির্দেশ পেয়েছেন এবং বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তিনি জানান, “যদিও আদালত ৬০ দিনের সময়সীমা দিয়েছে, আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করব।”
তিনি আরও জানান, মাই উশিরিয়ার বাবা-মা বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন, এবং রাজ্য সরকার নবদম্পতির জন্য একটি বাড়ি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, কানো শহর নাইজেরিয়ার বিখ্যাত স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্প ‘কানিউড’-এর কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় নেতারা ও সরকারি কর্তৃপক্ষ বিনোদনমূলক কনটেন্ট কঠোরভাবে তদারকি করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অশালীন’ কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগে একাধিক টিকটক নির্মাতাকে গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত করা হয়েছে।