Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / যুদ্ধ থামানোর তিনটি শর্ত দিলো তেহরান - Chief TV

যুদ্ধ থামানোর তিনটি শর্ত দিলো তেহরান - Chief TV

2026-03-12  আন্তর্জাতিক ডেস্ক  31 views
যুদ্ধ থামানোর তিনটি শর্ত দিলো তেহরান - Chief TV

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন গোলা আর মিসাইলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই যুদ্ধ থামানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামনে তিন দফা শর্ত ছুড়ে দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ‘ন্যায়সঙ্গত অধিকার’ স্বীকৃত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। তিন শর্তেও কোন আপস হবে না।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সাথে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথমত, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অধিকারগুলো বিশ্বমঞ্চে মেনে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধে ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে আর কোনোদিন ইরানের ওপর হামলা হবে না, এমন শক্ত আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট যখন শান্তির শর্ত দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সামরিক বাহিনী থেকে এল এক বিধ্বংসী হুঁশিয়ারি। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুল ফজল শেকারচি সরাসরি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের কোনো বন্দর বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র এখন আর ইরানের নাগালের বাইরে নেই।

তিনি বলেন, যদি আমাদের বন্দরে হামলা হয়, তবে এই অঞ্চলের প্রতিটি বন্দর আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত তাদের মাটি থেকে দ্রুত মার্কিনিদের বহিষ্কার করা।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ চললেও ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন হওয়ার কোনো নিশ্চিত সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কথা বললেও, ইসরাইলের গোয়েন্দা তথ্য বলছে ওয়াশিংটন এখনই এই সংঘাত থামানোর কোনো নির্দেশ দেবে না।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আর সরকারি বাহিনীর কঠোর দমনের ভয়ে কেউ রাজপথে নামার সাহস পাচ্ছে না।

যদিও ইরান যুদ্ধের ময়দানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর অর্থনীতির ধস ইরানি জনগণকে এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঠেলে দিয়েছে। জানুয়ারির বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু আর বর্তমান যুদ্ধাবস্থা, সব মিলিয়ে ইরান এক কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

পেজেশকিয়ানের এই শর্তগুলো কি ট্রাম্প প্রশাসন মেনে নেবে, না কি একে ইরানের ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের রণকৌশলে।


Share:

Single Page