Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যা,বেরিয়ে এলো খুনের আসল রহস্য - Chief TV

ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যা,বেরিয়ে এলো খুনের আসল রহস্য - Chief TV

2026-05-02  ডেস্ক রিপোর্ট  44 views
ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যা,বেরিয়ে এলো খুনের আসল রহস্য - Chief TV

ইউরোপের দেশ ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পরকীয়া সম্পর্ক, গোপন দ্বিতীয় বিয়ে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন- সব মিলিয়ে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে স্বজনরা। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর একটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের প্রবাসী দুই ভাই-হুমায়ুন ফকির ও নয়ন ফকির। ইতালির লেইজ শহরে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড এখন স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের দাবি, এটি তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পারিবারিক বক্তব্য অনুযায়ী, হুমায়ুন ফকিরের ব্যক্তিগত জীবনেই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের চাচাতো বোন তায়েবার সঙ্গে দীর্ঘদিন পরকীয়ায় জড়ান।

পরে দেশে এসে গোপনে দ্বিতীয় বিয়েও করেন। এই বিয়ে পরিবার মেনে নেয়নি, যা নিয়ে বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে ওঠে।

পরিবার জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভে ওই ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে হুমায়ুন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ছোট ভাই নয়নের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

অন্য দিকে, আর্থিক বিষয়ও এই দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তোলে। হুমায়ুন নিজ খরচে নয়নকে ইতালি নিলেও, পরবর্তীকালে নয়ন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা তাকে পরিশোধ করেন। এরপরও হুমায়ুন পরিবারের ভরণপোষণ বাবদ ব্যয়ের অর্ধেক, অর্থাৎ ৮ লাখ টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন। পরিবার বলছে, নয়ন টাকা দিতে রাজি থাকলেও, এর আগেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহতের বোন দিলারা আক্তার বলেন, আমরা এই হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। নিজের ভাইকে যেভাবে হত্যা করেছে, তা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।

প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন অভিযোগ করেন, হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে এবং ভরণপোষণ দিত না।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইতালির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে নয়ন ফকির বড় ভাইয়ের বাসার নিচে বৈদ্যুতিক সাইকেল চার্জ দিতে যান।

এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে থাকা মা-বাবাকে দেখান যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস করে তুলেছে।

বর্তমানে অভিযুক্ত হুমায়ুন ইতালিয়ান পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অবৈধ সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব মিলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে এনেছে। প্রবাসে থাকা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ও মানসিক চাপও এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি- দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর বার্তা দেওয়া হোক।


Share: