চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন, “আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে যদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। অনেকে নানা পরিকল্পনা করছে—আপনারা কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না। কেউ কোনো অন্যায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবেন।”
তিনি বলেন, “চাঁদপুরকে আমরা মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করবো। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করবো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদপুরের সব সমস্যার সমাধান করবো। আপনারা ভোট গণনার ফলাফল না দেখে কেউ ঘরে ফিরবেন না।”
সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল বলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চাননি, জনগণ তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে। জনগণ বিএনপিকে দেখেছে। তারেক রহমান যদি প্রধানমন্ত্রী হন এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পথ কখনো বন্ধ করবেন না। শেখ হাসিনার মতো মানুষ হত্যা করে বিএনপি ক্ষমতায় টিকে থাকবে না—এটা এ দেশের মানুষ জানে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বিএনপির নামে গিবত করে বেড়াচ্ছে, আপনারা জানেন গিবত করা কত বড় অপরাধ। তারা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) কি কোনো দিন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন? তারা কত বড় ভণ্ড ও প্রতারক। বছরের পর বছর বিএনপিকে দেখে মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। মানুষ জানে বিএনপি কারও গোলামি করে না।”
হাবিব উন নবী সোহেল বলেন, “১৭ বছর ধরে চাঁদপুরবাসীর মনের আশা পূরণ হয়নি। যে চাঁদপুর ধানের শীষের ঘাঁটি, বহুদিন পর সেই সুযোগ আবার এসেছে। আপনারা কি ধানের শীষের ইতিহাস জানেন? এই প্রতীক মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর যারা মাঠে ছিলেন, তাঁদের হাতেই ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। আমাকে পাঠিয়েছেন এই প্রতীক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।”
পরে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিমের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন—জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরু মিয়াজী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল উদ্দিন চৌধুরী।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন—জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ শফিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আব্দুল হামিদ মাস্টার, বর্তমান সহসভাপতি মাহবুবুর আনোয়ার বাবলু, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান শাহীন, সহসভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, ডিএম শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সেলিমুছ সালাম, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মোশাররফ হোসাইন, অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম মন্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আফজাল হোসেন বেপারী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আশিকুর রহমান শিপন, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ঢালী, চান্দ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গিয়াস উদ্দিন মিন্টু মাঝি এবং সাবেক ছাত্রনেতা মোক্তার হোসেন মাঝিসহ অনেকে।