বাহ্যিক অবয়ব দেখে কাঁঠালকে সুন্দর ফল বলা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ থাকলেও, এর কাঁটাময় ও বেঢপ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অনন্য স্বাদ। রূপ, রস, গন্ধ আর স্পর্শ মিলিয়ে কাঁঠালের আবেদন একেবারেই নিজস্ব, যা নিয়ে মানুষের অনুভূতিও দুই মেরুর।
কেউ একে গভীরভাবে ভালোবাসেন, আবার কারও কাছে এর তীব্র সুবাস একেবারেই সহ্য হয় না। তবে এই চেনা ফলটি শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, এটি বাঙালির খাদ্যাভ্যাস, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কাঁচা কাঁঠাল বা ‘এঁচোড়’ তার আঁশযুক্ত পুষ্টিকর গঠনের কারণে অনেকের কাছে ‘গরিবের মাংস’ হিসেবে পরিচিত, আর পাকা কাঁঠাল তো তার মিষ্টি স্বাদের জন্য অতুলনীয়। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠালে প্রোটিনের পরিমাণ যেমন বেশি, তেমনি এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।
বর্তমানে কাঁঠালের ব্যবহার শুধু ফল বা তরকারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নানা উদ্ভাবনী খাবার প্রদর্শন করা হয়েছে।
বর্তমানে কাঁঠালের ব্যবহার শুধু ফল বা তরকারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নানা উদ্ভাবনী খাবার প্রদর্শন করা হয়েছে।
সেখানে কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, ললিপপ, শাশলিক থেকে শুরু করে পেস্ট্রি, কেক ও হালুয়ার মতো চোখধাঁধানো সব পদ স্থান পায়, যা এই ফলের অনাবিষ্কৃত বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে নতুন করে চিনিয়েছে।
উৎপাদনের দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ভারত প্রথম স্থানে থাকলেও বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।
কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, কাঁঠালকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে নির্বাচনের পেছনে রয়েছে এর সহজলভ্যতা, আদি ইতিহাস ও সর্বজনীনতা। ভারতীয় উপমহাদেশই কাঁঠালের আদিনিবাস এবং বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে কাঁঠাল জন্মায় না।
কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, কাঁঠালকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে নির্বাচনের পেছনে রয়েছে এর সহজলভ্যতা, আদি ইতিহাস ও সর্বজনীনতা। ভারতীয় উপমহাদেশই কাঁঠালের আদিনিবাস এবং বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে কাঁঠাল জন্মায় না।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফল এবং ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুর রাজ্যফলও এই কাঁঠাল। উদ্ভিদবিদদের মতে, ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় আজও বুনো কাঁঠাল জন্মাতে দেখা যায়।
আজ ৪ জুলাই, বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার এবং উদ্ভিদভিত্তিক পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনাকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। আজকের দিনে বহুদিনের চেনা এই জাতীয় ফলকে নতুন রান্নায় কিংবা পাকা কোয়ার স্বাদে নতুন করে আবিষ্কার করার দারুণ সুযোগ রয়েছে সবার সামনে।