জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমি সিলেটের সন্তান। জামায়াতের আমির হিসেবে নয়—আপনাদের একজন হিসেবেই আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হব না, আপনাদের চৌকিদার হব।”
শনিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে আগামী পাঁচ বছরে তরুণ সমাজ ও মা-বোনদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। গত ৫৪ বছর ধরে দেশে জুলুমের রাজনীতি চলছে, যার বড় ভুক্তভোগী জামায়াতে ইসলামী। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধের পথে না গিয়ে আমরা ক্ষমার পথ বেছে নিয়েছি। তবে ভবিষ্যতে কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না, অফিস-আদালতে ঘুষের সুযোগ থাকবে না।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিপুল সম্পদ লুট হয়েছে। যারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেছে, দায়িত্ব পেলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ হলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। তিনি আবারও বলেন, “আমরা শাসক নয়, আপনাদের সেবক হতে চাই।”
সিলেটের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সিলেটবাসী তাদের ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না। এখনো অনেক এলাকায় গ্যাস সংযোগ নেই, নদীগুলোও অবহেলিত। জামায়াত দায়িত্ব পেলে নদী খননের পাশাপাশি নদীবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, কৃষকদের হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে, জেলেদের দেওয়া হবে জাল—“জাল যার, জল তার।” চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, একটি মহল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং তার এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। তবে এসবের পরও তিনি সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।