চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত কর্ণফুলী টানেলে টোল আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বলে সংসদে জানানো হয়েছে। টানেল থেকে মাসে গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা আয় হলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী জানান, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলো ব্যবস্থা, বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অগ্নি-নিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে পরিচালনা ব্যয় বেশি হচ্ছে। তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ফলে দৈনিক ব্যয় আগের তুলনায় কমিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী টানেলকে লাভজনক করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই অধিবেশনে মন্ত্রী আরও জানান, যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার বিআরটি করিডোর দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রকল্পটি জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়েও সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
রেলমন্ত্রী পৃথকভাবে জানান, ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ লেভেলক্রসিংয়ে অটোমেটিক ব্যারিয়ার ও স্মার্ট গেট সিস্টেম চালুর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে, যার সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা হবে।