প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের দিকে না তাকিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।
সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেটের লক্ষ্য ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থনীতি ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এবারের বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের দাম না বাড়া একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকট, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বাস্তবতা সামনে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য জনগণকে স্বস্তি দেওয়া।
সংসদ নেতা হিসেবে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ার পরিকল্পনা। লক্ষ্য হলো ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সীমিত সম্পদের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।