আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত ভেন্যুতেই ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশকে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় এবং তাদের ম্যাচগুলো সহ–আয়োজক দেশ শ্রীলংকায় স্থানান্তরের অনুরোধ করে আইসিসির কাছে। তবে এ নিয়ে ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিসিবির একাধিক বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।
বিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে আইসিসি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
ক্রিকইনফোসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইসিসি বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে। আইসিসি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। যদিও স্কটল্যান্ড বাছাইপর্বে জায়গা পায়নি, তবে র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে তারা শীর্ষে রয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ রয়েছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ ‘সি’-তে। সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। বিকল্প হিসেবে শ্রীলংকায় ম্যাচ থাকা গ্রুপ ‘বি’-এর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, আইসিসির সঙ্গে ভারতের একটি বিশেষ চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে কলম্বোতে খেলবে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। বিষয়টি বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক শত্রুতার অভিযোগ তোলে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।