Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা - Chief TV

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা - Chief TV

2026-06-15  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  35 views
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা - Chief TV
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের জরুরি চিকিৎসা সেবার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ইউনিটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবল ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় এই সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
 
আইসিইউ চালুর ফলে এখন থেকে মুমূর্ষু রোগীরা জেলা পর্যায়েই জীবন রক্ষাকারী বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন, যা এতদিন তাদের খুলনা বা ঢাকায় গিয়ে গ্রহণ করতে হতো। এই উদ্যোগটি বাগেরহাটবাসীর জন্য স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‎তবে আইসিইউ চালুর আনন্দ ছাপিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী এবং সচেতন মহলে হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, আইসিইউ সেবা কেবল শয্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় প্যাথলজি, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল।
 
বর্তমানে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট রয়েছে, যা এই ইউনিটের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আইসিইউ পরিচালনা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়ে গেছে।
 
রোগীদের অভিযোগ, আইসিইউ চালু হলেও সিটিস্ক্যান, সিসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি সেবাগুলো এখনো অধরা। ফলে সাধারণ রোগীরা একদিকে আইসিইউ সুবিধা পেলেও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য এখনো তাদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানিয়েছেন যে, পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের অন্যান্য যন্ত্রপাতির সংকট নিরসন করা হবে এবং আইসিইউ ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম হাসপাতালের সকল পর্যায়ের কর্মীদের রোগীদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কেবল আশ্বাস নয় বরং আইসিইউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
 
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ডায়ালাইসিস মেশিন ও সিটিস্ক্যান সুবিধাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিশেষায়িত সেবাগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে এবং প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়।

‎পরিশেষে বলা যায়, বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, তবে এর স্থায়িত্ব এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি। যদি জনবল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংকট দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে এই মহতী উদ্যোগটি কেবল লোক দেখানো সেবায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
 
পরিবহন ব্যয় ও সময় বাঁচিয়ে স্থানীয়রা যেন উন্নত চিকিৎসা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি একান্ত প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের সঠিক সমন্বয় ঘটলে বাগেরহাটবাসীর চিকিৎসা সেবায় যে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Share: