Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজনীতি / জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: জানা গেলো নেপথ্যের কারণ- Chief TV

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: জানা গেলো নেপথ্যের কারণ- Chief TV

2025-10-20  ডেস্ক রিপোর্ট  210 views
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: জানা গেলো নেপথ্যের কারণ- Chief TV

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন—তার ও প্রেমিক মাহির রহমানের মধ্যে দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এ সময় বর্ষা মাহিরকে জানান যে তিনি জোবায়েদকে পছন্দ করেন। যদিও বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু বর্ষার এ কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মাহির তার বন্ধুদের সহায়তায় জোবায়েদকে হত্যা করে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষার মধ্যে কোনো ভয়, হতাশা বা কান্নার ছাপ পাওয়া যায়নি—তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।

গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকার ১৫, নুরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাড়িতে ছাত্রী বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই বাসার তিনতলায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিঁড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত রক্তের দাগ ছিল।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভ ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন দীর্ঘ সময়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয়। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে নিহত জোবায়েদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত নিহতের পরিবার মামলা করতে পারেনি। বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত অভিযোগ করেন, “আমরা বর্ষা, তার বাবা-মা, প্রেমিক মাহির ও নাফিসসহ পাঁচজনের নামে মামলা দিতে চাইলে ওসি বলেন, এতজনের নামে মামলা না দিতে। মেয়ের বাবা-মাকে আসামি করলে মামলা দুর্বল হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। কিন্তু মামলা দিতে গিয়ে সাত ঘণ্টা ধরে থানায় বসে থাকতে হয়েছে। ওসি উপস্থিত না থাকায় মামলার প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়। পরে ওসি এসে আসামির সংখ্যা কমানোর পরামর্শ দেন।”

এ বিষয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের নামেই মামলা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।”

চলমান তদন্তে পুলিশ বলছে, প্রেমঘটিত টানাপোড়েনই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করছে না।

 


Share: