লালন সাঁইজির মানবতাবাদী দর্শন ও সাম্যের চিরন্তন বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গঠিত কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের নবগঠিত কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচিতি ও আলোচনা সভা।
আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা ও সংগঠনের বন্ধনে আবদ্ধ এই আয়োজনটি পরিণত হয় সাধু সমাজের এক মিলনমেলায়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়ায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাধু, বাউল, ফকির, পীর-মাশায়েখ ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হয়ে আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কালিহাতী শাখার সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি সাধু আসাদুজ্জামান (আসাদ) এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাধু দুলাল চন্দ্র সূত্রধর।
প্রতিষ্ঠাতা শাহ আলম তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,
“লালন সাঁই আমাদের শিখিয়েছেন—মানুষই সবচেয়ে বড় সত্য। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নয়, মানবতাই মানুষের আসল পরিচয়। সেই দর্শনকে ধারণ করেই আমরা কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদ গঠন করেছি। এই পরিষদ কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি মানবিক আন্দোলন। আমরা চাই সাধু সমাজের মূল্যবোধ সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যাক এবং মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সহনশীলতার আলো জ্বলে উঠুক।”
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জীবনানন্দ মঠ, ধুনট (বগুড়া)-এর সহকারী অধ্যক্ষ আচার্য নরেন্দ্রনাথ বসাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বাউল সমিতির সভাপতি বাউল সুনীল চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক বাউল জসীম সরকার, কবির সরকার, ডা. সাধু মনীন্দ্র পাল এবং খ্যাতিমান লালনশিল্পী লিজু বাউলা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সভাপতি হরিমোহন পাল, কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদের নির্বাহী সভাপতি সাধু বিজন কুমার ভট্টাচার্য, নির্বাহী সদস্য সাধু রবীন্দ্রনাথ কর্মকারসহ অন্যান্য বক্তারা। তাঁরা বলেন, যুগ যুগ ধরে সাধু সমাজ মানবিকতা, সত্য ও ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে আসছে। নবগঠিত কেন্দ্রীয় সাধু পরিষদ সেই আলোকধারাকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেবে।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। পরে বিকেলে কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীদের পরিবেশনায় মরমি লালনসংগীতে প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।