কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় প্রধান পিলটকাটা খালসহ চারটি মৃতপ্রায় খাল খননের প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় লবণ চাষে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। খালগুলো ভরাট হয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার প্রায় ৫ হাজার একর লবণ মাঠে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বড়ঘোপ, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পিলটকাটা খাল সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। এই খালের মাধ্যমে স্লুইসগেট ব্যবহার করে বিভিন্ন লবণ মাঠে লবণাক্ত পানি সরবরাহ করা হয়। খালটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো দক্ষিণ ধুরুংয়ের ডিংগাভাঙা খাল, লেমশীখালীর কাজীরপাড়া খাল এবং উত্তর ধুরুংয়ের কালারমাপাড়া খাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর পলিমাটি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্রভাবশালী কিছু লবণচাষি খালের দুই পাড় দখল করে নিজেদের লবণ মাঠ সম্প্রসারণ করায় খালগুলোর প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ভাটার সময় এসব খালে পানি থাকে না এবং প্রয়োজনীয় সময়ে লবণ মাঠে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
লবণচাষি নুরুল কবির বলেন, খালগুলো এখন নামমাত্র টিকে আছে। পানি ধরে রাখার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় লবণ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত খাল খননের দাবি জানান তিনি।
প্রাইভেট সার্ভেয়ার মোহাম্মদ জকরিয়া জানান, প্রায় পাঁচ দশক আগে পিলটকাটা খালের গড় প্রস্থ ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট। বর্তমানে তা কমে ১০০ থেকে ১৫০ ফুটে নেমে এসেছে। তার মতে, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে শুধু লবণ মাঠে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহই নয়, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত হবে।
এদিকে খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর একাধিক প্রস্তাবনা পাঠালেও এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পিলটকাটা খালের ১৫ কিলোমিটার এবং কাজীরপাড়া খালের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে পিলটকাটা খালের জন্য ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং কাজীরপাড়া খালের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাবও জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, ডিংগাভাঙা ও কালারমাপাড়া খাল খননের জন্যও পৃথক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব উল আলম বলেন, পিলটকাটা খালসহ সংশ্লিষ্ট খালগুলোর গভীরতা বৃদ্ধি ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে খনন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে দখল হওয়া খালের পাড়ও পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে।