খুলনায় নতুন কারাগার নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে বেরিয়ে এসেছে লুটপাটের এক ‘মেগা’ কাহিনি। বালু সরবরাহ থেকে শুরু করে জমি অধিগ্রহণ পর্যন্ত—সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজে দুই কোটি ৬৬ লাখ ১৯২ দশমিক শূন্য আট ঘন মিটার বালু ফেলেছেন ঠিকাদার বুরুজ। বুরুজের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট অংশের কাজ নেয় এস এন বিল্ডার্স।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, বুরুজকে প্রতি ঘনফুট বালুর দাম দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৮ টাকারও বেশি, আর দাউদকে দেওয়া হয়েছে ১১ টাকারও বেশি। অথচ খুলনার অন্তত তিন বালু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ সালে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতি ঘনফুট বালুর দাম ছিল সাড়ে চার থেকে পাঁচ টাকা।
এই হিসাবে শুধু বালু থেকেই বুরুজ অতিরিক্ত নিয়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ টাকা। আর এস এন বিল্ডার্স যখন বালু সরবরাহ শুরু করে, তখন বাজারে বালুর দাম কিছুটা বাড়লেও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতি ঘনফুট ছয় টাকার মতো ছিল। সে হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত নিয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা।
কৃষিজমি ধ্বংস করে প্রকল্প
নতুন কারাগার নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয় খুলনার জিরোপয়েন্ট-ফুলতলা বাইপাস সড়কের পশ্চিম পাশে ডুমুরিয়া উপজেলার চক আসানখালী এলাকার ৩০ একর কৃষি জমি। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে খুলনা জেলা প্রশাসন।
মোট ২৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকায় ৪১২ জনের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শুরু থেকেই প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও রাজনৈতিক চাপে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। খুলনার নাগরিক নেতাদের অভিযোগ, কৃষিজমি ধ্বংস করে তৈরি করা এই প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নেওয়া হয়েছে।
১৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি
প্রকল্প চলাকালে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর ১৩ জন নির্বাহী প্রকৌশলী পরিবর্তন হয়েছেন। সর্বশেষ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর যোগ দেন।
তিনি জানান,
“আমি প্রকল্পের শেষের দিকে যোগদান করেছি। অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো তথ্য আমার জানা নেই। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি। জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে কাজ শুরুতে দেরি হয়েছে, তাই সময়ও বেড়েছে।”
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হয়েছে অস্বচ্ছতা, প্রভাব ও অপচয়ের খেলা—যা খুলনার নতুন কারাগারকে পরিণত করেছে লুটপাটের এক ‘মেগা প্রকল্পে’।