Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / নীলফামারী / সৈয়দপুরে আগুনে ঝলসানো বৃদ্ধ উদ্ধার নাশকতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  -Chief TV

সৈয়দপুরে আগুনে ঝলসানো বৃদ্ধ উদ্ধার নাশকতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  -Chief TV

2026-06-03  মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি  18 views
সৈয়দপুরে আগুনে ঝলসানো বৃদ্ধ উদ্ধার নাশকতার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  -Chief TV
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো এক নাশকতার ঘটনায় ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে ঝলসানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

নাশকতার শিকার বৃদ্ধের নাম আফাজ উদ্দিন (৬২)। তিনি কাচারীপাড়ার মৃত ঢেপা মাহমুদের ছেলে। তাঁর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি পূর্বে হওয়া ঝগড়ার জের ধরে প্রতিপক্ষরা প্রাণ নাশের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা করেছে। আর প্রতিপক্ষের মন্তব্য আক্রোশ বশত: মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে হেনস্তা করতে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের হামুরহাট হয়ে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে যাওয়ার পাকা রাস্তার পাশে জমি কিনে বাড়ি করছেন অগ্নিদগ্ধ আফাজ উদ্দিনের ছেলে অটোচালক নুর হোসেন (৩৫)। এর আশেপাশের জমিগুলো একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাঝাপাড়ার আব্দুল জব্বারের (৫৮)।

পূর্ব পাশের জমিতে থাকা একটা বটগাছের ঝরে পড়া পাতা কুড়ানো নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে বাক বিতন্ডা ও ধাক্কা ধাক্কি হয় আব্দুল জব্বারের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) ও নুর হোসেনের স্ত্রী লতা বেগমের (২৫) মধ্যে। এসময় নুর হোসেন ঘটনাটা মোবাইলে ভিডিও করার চেষ্টা করলে আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল (২৮) এসে বাধা দেয়।

এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির সময় নুর হোসেনের মোবাইল স্কিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় মেম্বার মিমাংসার চেষ্টা করলেও নুর হোসেন না মানায় শেষ পর্যন্ত বিরোধ রয়েই যায়। এর প্রেক্ষিতে নুর হোসেন প্রায়ই প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল চঞ্চলের পরিবারকে।

দীর্ঘ ৬ মাস পর বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯ টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে একজন নিকটাত্মীয় রোগিকে দেখে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা বাজারের ধুলিয়া মোড় এলাকায় হবি পান দোকানের সামনে চঞ্চলকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা করে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে নুর হোসেন।

এতে ওই এলাকার দোকানদাররাসহ উপস্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে নুর হোসেনকে আটক করে পাশেই আব্দুল মতিনের রড সিমেন্টের দোকানে রাখে এবং আহত চঞ্চলকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করে।

পরে উত্তেজিত জনতা ঘটনার কারণ জানতে পেরে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় নুর হোসেনকে তার এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার আতিকুল ইসলামের হাতে সোপর্দ করা হয়।

মেম্বার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে পরের দিন মিমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে নিবৃত থাকতে বলে এবং সে অনুযায়ী রাত ২ টার দিকে সবাই বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু রাত ৪ টার দিকে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন পাকা বাড়ির সাথে টিনের ঘরে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন গুরুতরভাবে ঝলসে যায়।

নুর হোসেনের স্ত্রী লতা বেগম বলেন, চঞ্চল
থাই জুয়া আর ভিসা প্রতারণার সাথে জড়িত। সেই টাকার গরমে আমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ ইভটিজিংয়ের চেষ্টা করে। প্রায়ই বাড়ির পাশে এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। অনেক সময় বট গাছে উঠে বসে থাকে। এসবের প্রতিবাদ করায় পাতা নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে আমার গায়েও হাত তুলেছে। এমনকি তার অপকর্ম ভিডিও করলে আমার স্বামীর মোবাইল ভেঙ্গে ফেলেছে।

আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, চঞ্চল পাতা কুড়ানো নিয়ে আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙ্গে দেয়। তার সেই ঘটনার বিচার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঝগড়া লাগানোর তালে থাকে। মঙ্গলবার রাতে তারাগঞ্জের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই পুরাতন বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছে। তিনি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার বার্ণ ইউনিটে নিতে বলেছেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।

চঞ্চলের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা অত্যন্ত নিরীহ ও সহজ সরল মানুষ। ৬ মাস আগের ঘটনা নিয়ে গতকাল আমার ছেলেকে মারপিট করা নিয়ে আমি কোন উচ্চ বাচ্য করিনি। চেয়ারম্যান মেম্বার যা বলেছে তাই মেনে নিয়ে আমরা সবাই অনেক রাতে বাড়ি এসে ঘুমিয়ে পড়েছি। সকাল ১০ টার দিকে ফেসবুকে দেখে জানতে পারি আফাজ উদ্দিনে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা।

অথচ আমাদেরকেই এর সাথে জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। যা জঘন্য রকমের মিথ্যেচার। আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা ঘুণাক্ষরেও এমন অপরাধ করাতো দূরের কথা কল্পনাতেও ভাবিনি। যারা এধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করা হোক।

চঞ্চলের মা নুরজাহান বেগম বলেন, আমার গাছের পাতা আমি আনতে গেলে নুর হোসেনের স্ত্রী লতা আমার চুলের ঝুটি ধরে মারধর করেছে। এমনকি নুর হোসেন মোবাইলে ভিডিও করলে আমার ছেলে বাধা দেওয়ায় মিথ্যে অভিযোগ করেছে যে, মোবাইল ভেঙ্গে ফেলেছে। আমরা ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলেও মিমাংসা করেনি। উল্টা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলেছে।

মঙ্গলবার রাতে আমার ছেলে চঞ্চলকে মেরে আহত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন আবার নিজেরাই আগুন লাগিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে বলির পাঠা বানিয়ে আমাদের শায়েস্তা করতে চায়। আল্লাহ এই মিথ্যা বরদাস্ত করবেনা। যেই জড়িত থাক, সঠিক তদন্ত করে এই জঘন্য কাজের বিচার দাবী করেন তিনি।

তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১১ নং বেডে চিকিৎসাধীন আব্দুস সালাম চঞ্চল বলেন,
৬ মাস আগের ঘটনা আমি ভুলেই গেছি। অথচ তারা আক্রোশ মুলকভাবে মিমাংসা না করে জিইয়ে রেখে মঙ্গলবার রাতে
তারাগঞ্জ বাজারে আমার উপর হামলা চালিয়েছে। আমাকে মেরে জখম করার ঘটনা ভিন্ন খাতে চালানোর জন্য নুর হোসেন পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়েছে। এর সাথে আমরা কেউ জড়িত নই। আমি রাত থেকেই হাসপাতালে।

এলাকার জহুরুল হকের ছেলে মিলন হোসেন বলেন, আফাজ উদ্দিন অত্যান্ত ভালো মানুষ। কিন্তু তার ছেলেরা নষ্ট চরিত্রের। থাই জুয়া ও ভিসা প্রতারণা করে অনেক টাকা কামিয়েছে। সেই টাকা দিয়েই আমাদের জমি কিনে বাড়ি করে এবং আমাদেরকেই নানাভাবে হয়রানি করছে।

নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে তারা যেকোন কাজ করতে পারে। একজন নিরীহ ছেলের উপর মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে পুরো পরিবারটাকে পর্যুদস্ত করতে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানোর ঘটনা তারা নিজেরাই ঘটিয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই সত্য বেড়িয়ে আসবে। আমরাও উচিত বিচার চাই।

রেজাউল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, মূলত: নুর হোসেন ঘরে আগুন লাগানোর নাটক করে চঞ্চলদের কোনঠাসা করতে চেয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তার বাবা এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কেননা, যে টিনের ঘরে আগুন লেগেছে। সেখানে দুইটা কাঠের চৌকি আছে। উত্তর দিকেরটাতেই বিছানা আছে এবং সম্ভবত সেখানেই ঘুমায়। অথচ দক্ষিণ পাশের চৌকিতে কোন বিছানা নাই এবং সেদিকের বেড়ার টিন আগুনে পোড়ার চিহ্ন।

তাছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাই। সন্দেহ মুলক অহেতুক চঞ্চলদের দোষারোপ করা হচ্ছে। চঞ্চল রাতে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যরাও এমন ঘটনা কখনোই ঘটাতে পারেনা। এমনও হতে পারে তৃতীয় কোন পক্ষ এই আগুন লাগিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা থেকে এই চক্রান্ত করেছে। যেই এই অপরাধ করেছে তারই দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এলাকার মেম্বার আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটা চরম ন্যাক্কারজনক। চঞ্চল বা তার
পরিবারের পক্ষে এমন কাজ করা কখনোই সম্ভব নয়। আবার নুর হোসেনরাও যে নিজেরা করেছে তাও বিশ্বাস হয়না। তবে যেহেতু ঘটনা ঘটেছে তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে অনাহুত হয়রানি করাও ঠিক হবেনা। বিষয়টা আমরা নিরীক্ষণ করছি।

একই কথা বলেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী। তিনি এই ঘটনায় নুর হোসেন পরিবার কোনভাবেই জড়িত নন বলে বিশ্বাস করেন। এনিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অপরাধের চরম শাস্তি হওয়া উচিত। এজন্য নিরপেক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে প্রশাসনকে সঠিক তথ্য উদঘাটনের আহবান জানান তিনি।

 

Share: