কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নে রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এক বিএনপি নেতার ওপর হামলা এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে চান্দেরচর ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জামায়াতে ইসলামীর একটি পূর্বনির্ধারিত সভাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল। ঘটনার দিন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন সরকার দলীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে রাজনৈতিক সভা না করার অনুরোধ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন সরকারের অভিযোগ, তিনি শুধু বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সভা না করার অনুরোধ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো কিছু বোঝার আগেই তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও কিল-ঘুষিতে শরীরের ভেতরে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় পরিদর্শন করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলেন।
অন্য দিকে, এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেছে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা মো. মেহেদী হাসান জানান, তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে এসে বিএনপি নেতা আপত্তি জানালে তাঁরা কেবল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় সামান্য ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে তাঁরা স্থান ত্যাগ করেন। কার্যালয় ভাঙচুর বা হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং এর সাথে জামায়াতের কোনো কর্মী জড়িত নয় বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে, তাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে তাঁরা আশাবাদী। পাশাপাশি চান্দেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হাসান জাকি জানান, তাঁরা সবসময় সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তবে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়ার নির্দেশে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁরা মাঠে কাজ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।