আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকা ও অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভোটের আগে ও ভোটের দিন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত এমএফএসের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা।
এ সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। বিশেষ নজরদারির আওতায় কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়, যা দেশের সব ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)–এর আওতাধীন ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের অপব্যবহার রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ব্যক্তিক হিসাবের লেনদেন সীমিত থাকবে। একই সময়ে আইবিএফটির মাধ্যমে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, এ সময় এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে লেনদেন ব্যবস্থা আগের নিয়মে স্বাভাবিকভাবে চালু করা হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি এমএফএস হিসাব থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পাঠানো যায়। একই সঙ্গে একটি হিসাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জমা রাখা যায়। এছাড়া এজেন্ট পয়েন্ট থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩০ হাজার এবং মাসে দুই লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে।