মশা মারতে ফ্লোরিডা কেন, ডোবার পাশেই সমাধান: কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিগত সরকারগুলোর আমলে খিচুড়ি রান্না, ঘাস চাষ, পুকুর খনন কিংবা লিফট ও কুকুর পরিচালনার মতো অদ্ভুত সব বিষয়ে ‘প্রশিক্ষণ’ নিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের খবর গণমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যেত। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা হলেও, রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে এমন প্রমোদভ্রমণ বন্ধে অতীতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা বার্তা দেখা যায়নি। তবে এবার সরকারি কর্মকর্তাদের ঢালাও বিদেশ সফরের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্প্রতি মশা নিধনের তথাকথিত ‘উদ্ভাবনী কার্যক্রম’ দেখতে ও শিখতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার আবেদন করেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই সফরের অনুমোদন তো দেনইনি, উল্টো ফাইলে এক হাস্যরসাত্মক অথচ কঠোর নোট লিখে তা বাতিল করে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফাইলে দেওয়া নোটে প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করে লিখেছেন:
"মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবার পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেই মশা নিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব।"
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রশাসনিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টিকে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধ এবং জনস্বার্থের সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক ও কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মকর্তারা এখন থেকে চাইলেই যেকোনো অজুহাতে রাষ্ট্রীয় টাকায় বিদেশ সফরের ফাইল তুলতে সাহস পাবেন না।
প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের প্রশংসা করে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন:
"‘মশা মারতে কামান দাগানো’র কথাটি বহুল প্রচলিত—তবে মশার অছিলায় যে এমন দৃষ্টান্তও স্থাপন করা যায়, সেটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ হাতে লেখা এই নোট বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে।"
পোস্টটির সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিজ হাতে লেখা সেই নোটটির ছবিও সংযুক্ত করে শেয়ার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মেসেজ’ আগামী দিনে অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।