গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শিল্প কারখানায় নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। মঙ্গলবার বিকেলে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্যে তিনি নারী অধিকার, নারী শ্রমিক, গাজীপুরের উন্নয়নসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত ৫৪ বছরে দেশে কিছু উন্নয়ন হয়েছে, তবে তা দুই ধরনের—একটি জনগণের জন্য, অন্যটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জন্য। জনগণের উন্নতি করতে গিয়ে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে। রডের পরিবর্তে বাঁশ, সিমেন্টের পরিবর্তে ছাঁই ব্যবহার করা হয়েছে। যারা মানুষের সম্পদ চুরি করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে ৪০ লাখ শ্রমিক-কর্মকর্তা কাজ করছেন, কিন্তু নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নেই। ক্ষমতায় এলে ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
নারী শ্রমিকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, “কারখানায় নারীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। মায়েদের সম্মান দেয়া হয় না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য দূর করব। সন্তান থাকা মায়েরা ডে কেয়ার সেন্টারে সন্তানদের দেখাশোনা করতে পারবে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবে। সুস্থ মা ও শিশুই সুস্থ সমাজের ভিত্তি।”
তিনি যুব সমাজের প্রশিক্ষণ এবং শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “যুব সমাজ সামনে এগিয়ে যাবে। দেশকে তারা আগামীর দিকে নেতৃত্ব দেবে।”
ডা. শফিকুর রহমান সরকারের নীতিমালা ও প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, “যারা মায়েদের অসম্মান করে, তারা দেশেরও সম্মান করে না। আমরা জীবন দেব কিন্তু মাকে অসম্মান করতে দেব না।”
তিনি যোগ করেন, “জুলাই আন্দোলনে শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকসহ নানা শ্রেণির মানুষ প্রাণ দিয়েছে। ক্ষমতায় এলে দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত সম্পদ ফিরিয়ে আনা হবে এবং ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নত করা হবে।”
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক জামাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা মাওলানা জয়নাল আবেদিন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর-৫ আসনের প্রার্থী খায়রুল হাসান, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। হেলিকপ্টারযোগে জামায়াত আমির রাজবাড়ী মাঠে পৌঁছান এবং সভার শেষে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় ও দোয়া নেন।