Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজনীতি / নওগাঁ-৩ আসনে বহুমুখী লড়াই, বিএনপির দলীয় দ্বন্দ্বে সুবিধায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা - Chief TV

নওগাঁ-৩ আসনে বহুমুখী লড়াই, বিএনপির দলীয় দ্বন্দ্বে সুবিধায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা - Chief TV

2026-02-11  উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ প্রতিনিধি  110 views
নওগাঁ-৩ আসনে বহুমুখী লড়াই, বিএনপির দলীয় দ্বন্দ্বে সুবিধায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা - Chief TV

জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসনটি গঠিত হয়েছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে। এ আসনে সর্বোচ্চ আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীরা হলেন— ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাতীয় পার্টি), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)।

এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবং জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধ্যে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দল ও নানা বিতর্কে বিএনপির ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রতি কিছু ভোটারের আগ্রহ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসন পুনরুদ্ধারে দলটি জোর প্রচার চালালেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শেষ মুহূর্তে দলীয় কোন্দল নিরসন না হলে বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

বিএনপি প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। শুরুতে বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি এবং মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে প্রচার চালান। তবে মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ ছিল। মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা বয়কট কর্মসূচিও পালন করেন। ২২ জানুয়ারির পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচারে নামলেও তা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১ নম্বর সদস্য পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার পিতা প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার এবং ১৯৯১ সাল থেকে পরপর চারবার এ আসনের সংসদ সদস্য। এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে তার পরিবার এখনও প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়।

গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবারও তার পক্ষে বিএনপির একটি অংশ নীরবে কাজ করছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। আঞ্চলিক প্রভাবও তার পক্ষে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনায় শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নারী কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ আসনে নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৮৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৭৯৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।

সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রচারণার শেষ দিনে মহাদেবপুর হাইস্কুল মাঠে জামায়াতের জনসভা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর সমর্থকদের বড় মিছিল ছিল চোখে পড়ার মতো।

এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কে হাসবে বিজয়ের হাসি।


Share: