Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / ঝিনাইদহ / শৈলকূপায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর নাড়ি কাটার অভিযোগ, বিচারের দাবি - Chief TV

শৈলকূপায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর নাড়ি কাটার অভিযোগ, বিচারের দাবি - Chief TV

2026-06-16  ডেস্ক রিপোর্ট  26 views
শৈলকূপায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর নাড়ি কাটার অভিযোগ, বিচারের দাবি - Chief TV
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পিত্তথলির পাথর অপারেশন করতে গিয়ে এক গৃহবধূর পেটের নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ভুল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন নামের ওই গৃহবধূর জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার দরিদ্র পরিবার।
 
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন। অভিযুক্তরা হলেন—শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিন।
 
সংবাদ সম্মেলনে শৈলকূপা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৮ মে তার কন্যা মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
 
সেখানে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে পিত্তথলিতে পাথর শনাক্ত করেন এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে তার নিজস্ব নির্দেশনায় মিতাকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত 'শৈলকূপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে' ভর্তি করান।
 
ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. মামুন ও রাজবাড়ীর পাংশার চিকিৎসক ডা. নাসির উদ্দিন মিতার অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশন চলাকালীন চরম অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে তারা পিত্তথলির আশপাশের বেশ কিছু নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলেন, যার ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
 
অবস্থা বেগতিক দেখেও ডা. মামুন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড না করে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই আটকে রাখেন। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে গত ২৩ মে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 
সেখানে সিট না পেয়ে ওই রাতেই রোগীকে রাজধানীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন আইসিইউ ও পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে মিতার জীবন রক্ষা পেলেও বেসরকারি ওই হাসপাতালের বিল আসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
 
সব মিলিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি বিক্রি সহ দরিদ্র বাবার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভুক্তভোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ অস্বীকার করে জানান, তিনি মূল অপারেশন করেননি, বরং অজ্ঞানের ডাক্তার হিসেবে ওটিতে ছিলেন; অপারেশন করেছেন ডা. নাসির উদ্দীন এবং এর দায়ভারও তার।

Share: