লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর সাত বছর বয়সী এক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিশু নন্দিনী রানী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলিনী কান্তের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
সোমবার বিকেলে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের ভেতর সদ্য খোঁড়া গর্ত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী বিধান চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা, যাতে কয়েকটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
এই সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে সন্দেহভাজনের স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর জিডি গ্রহণে গাফিলতির অভিযোগে আদিতমারী থানার এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা তাদের অবুঝ সন্তানকে নির্যাতন ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।