পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া মহল্লায় এক যুবকের শ্বশুরবাড়ি থেকে শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি নামে দুই সন্তানের জনকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এই লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। নিহত বাপ্পি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজে জর্দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা নিয়ে স্বামী ও তার পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে মীম বাবার বাড়িতে চলে আসেন। বাপ্পির পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থানকালে বাপ্পিকে ভিডিও কল দিলে সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পান বাপ্পি।
এই ঘটনা নিয়ে চরম বিরোধের জেরে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে ফিরে বাপ্পিকে ডেকে নেন। স্ত্রী মীমের দাবি, সোমবার দিবাগত রাতে কথা-কাটাকাটির পর ঘুমিয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে বাপ্পিকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন এবং তিনি নিজেই ওড়না কেটে লাশ নিচে নামিয়ে শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন।
তবে বাপ্পির মা রুবী বেগম একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে অভিযোগ করেছেন যে, পুত্রবধূর পরকীয়া ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের ঘটনা ছেলে দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে বাপ্পির মা পুত্রবধূর বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে মীমের চাচাতো ভাই তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মণ্ডল জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।