ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি দেশটির সেনাসদস্যও রয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, হামলার সময় সংঘটিত সহিংসতায় সামরিক বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে কমপক্ষে ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থলবাহিনী নামানোর আগে ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করতে বড় পরিসরের বিমান অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যার লক্ষ্য ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানোর পথ সুগম করা।
এই অভিযানের সময় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। তবে নিহতের সংখ্যা বা অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
এই অভিযানের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি “শক্তিশালী ও চমকপ্রদ অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।