নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে নৈর্ব্যক্তিক বা এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষে প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে এই ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৩০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় এই চরম বিভ্রাট ঘটে। ওই কেন্দ্রে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে দুটি কক্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন না দিয়ে বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেট, ১২১ কোডের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরীক্ষার হলের তীব্র চাপে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ধরতে না পারলেও, পরীক্ষা শেষে বাড়ি গিয়ে উত্তর মেলানোর সময় ভুলটি ধরা পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ফলাফল নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
এই চরম গাফিলতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন।
এই চরম গাফিলতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন।
অন্যদিকে মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের চরম অবহেলার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা, প্রভাষক সামছুল আলম, প্রভাষক মাহমুদুর রহমান এবং প্রভাষক মো. আক্রাম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার ডিউটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান জানিয়েছেন, এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় আসা অসম্ভব, এটি পুরোপুরি শিক্ষকদের ভুল। অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার্থীদের ফলাফলের সুরক্ষায় শিক্ষা বোর্ডকে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত জানানো হয়েছে।